সাধারণ কাজেই অধিক অর্থ সাশ্রয় করার ১০টি কৌশল

জীবন কখনো একই রকমভাবে কাটে না। আজ হয়তো অর্থ সঙ্কট নেই, কিন্তু কাল হলেও হতে পারে। অন্যদিকে প্রায়ই নানান কারণে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। যেমন, পরিবারের কারও অসুস্থতা, কোনো একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ, বিয়ে বা সন্তানের জন্ম, কিস্তিতে বড় অংকের একটা কিছু কিনে ফেলা ইত্যাদি। সেই সময়ে যা সবচাইতে বেশি প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে সাশ্রয়। উপার্জন তো প্রতিদিন বাড়ে না। তাই অন্যান্য খাতে খরচ কমিয়েই মেটাতে হবে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন।

একটা জিনিস মনে রাখবেন, অর্থ সাশ্রয়ের মানে না খেয়ে থাকা নয় বা নিজেকে কষ্ট দেওয়া নয়। অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে অপচয় রোধ করা এবং কৌশল খাটিয়ে খরচ কমানো এবং টাকা জমানো। খুব সাধারণ কিছু কাজেই বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করার পদ্ধতিগুলো নিয়েই আজকের ফিচার।

১) সুপার শপ হতে কেনা কাটা বন্ধ করুন: কষ্ট করে হলেও প্রতি সপ্তাহের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর তালিকা করে নিন, ছুটির দিনে বাজার হতে সেগুলো সংগ্রহ করুন। প্রতিটি জিনিসেই কিছু টাকা করে কমে যাবে এবং বাড়তি ভ্যাটও দিতে হবে না। মাস শেষে দেখবেন অনেকগুলা টাকা বেঁচে যাবে।

২) একসঙ্গে বেশি জিনিস কিনবেন না: অনেকেই মনে করেন যে অর্থ সাশ্রয় করতে গেলে একসঙ্গে বেশি জিনিস কিনে ফেলা ভালো। কিন্তু সত্য হচ্ছে, একসঙ্গে বেশি কেনা হলে সবটা কখনোই ব্যবহার করা হয় না। ফলে অনেকটাই নষ্ট হয়। ফলে যেটুকু প্রয়োজন, কেবল সেটুকুই কেনা অভ্যাস করুন।

৩) রেস্তোরাঁয় খাওয়া বাদ দিন: রেস্তোরাঁয় খাওয়া মানেই খাবারের মূল্যের অন্তত ৩/৪ গুণ অর্থ দিয়ে আসা। হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে রেস্তোরাঁয় খেতে খারাপ লাগে না। কিন্তু সেটা যত কম হয় তত ভালো। বন্ধু বান্ধবের সঙ্গেও বাড়িতে আড্ডা দিন, রেস্তোরাঁর খাবার বাড়িতেই তৈরি করার চেষ্টা করুন। দেখবেন খরচ হবে অর্ধেকেরও কম, সময়টাও কাটবে অনেক ভালো।

৪) কিছু কিনতে ইচ্ছে হলেই হুট করে কিনে ফেলবেন না: ব্যাপারটি নিয়ে ভাবুন- আসলেই কি জিনিসটি আপনার প্রয়োজন? কয়েকদিন ভাবার পরেও যদি জিনিসটি কেনার ইচ্ছে থাকে, কেবল তখনই কিনুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখবেন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবতে বসলে কেনাকাটার ইচ্ছেটা চলে যাবে।

৫) অনলাইনে কেনাকাটা একদম বাদ দিন: অনলাইনে কেনাকাটা করা সহজ বিধায় অহেতুক বেশি জিনিস কেনা হয়ে যায়। অর্থ বাঁচাতে চাইলে এটা বাদ দিন।

৬) প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক ও গহনা কেনা বাদ দিন: দেখতে সুন্দর লাগছে বলেই কিনে ফেলতে হবে, ব্যাপারটি মোটেও সেটা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য আমরা অনেক দাম দিয়ে পোশাক কিনি। একবার পরার পর যা হয়তো আর পরা হয় না। এই ব্যাপারটি পরিহার করুন।

৭) যাতায়াতে খরচ কমান: অনেকেই বাসে চড়তে পারেন না, সবার পক্ষে হাঁটাও সম্ভবও নয়। সেক্ষেত্রে রিকশা ব্যবহার করুন। সিএনজি একদমই পরিহার করুন, কারণ তারা অহেতুক বেশি ভাড়া আদায় করে। বদলে উবার বা এই ধরনের সার্ভিসগুলো ব্যবহার করুন। এসব সার্ভিসে প্রায় সব সময়ে ছাড়ের অফার চলে। কোনো না কোনো কোম্পানিতে ছাড় আপনি পেয়েই যাবেন সব সময়ে। তাই কয়েকটি অ্যাপ ইন্সটল করে রাখুন এবং সুবিধামতো ব্যবহার করুন।

৮) অপ্রয়োজনীয় বাদ দিন: আজকেল অনলাইনে ব্যবহৃত পণ্য বিক্রয় করার অনেক গ্রুপ ও সাইট আছে। ব্যবহৃত পোশাক হতে শুরু করে ঘরের সামগ্রী, আপনার যা প্রয়োজন নেই, এমন সব কিছুই বিক্রয় করে দিন। ঘরে ফেলে রেখে নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।

৯) রূপচর্চায় খরচ কমানো যায় চাইলেই: দামি পার্লার বা সেলুনে যাওয়া বাদ দিন কিছুদিনের জন্য। প্রয়োজনীয় কাজগুলো মাঝারি মাপের পার্লার বা সেলুন থেকে সেরে নিন। খরচ কমে অর্ধেক হয়ে যাবে।

১০) উপহার নিয়ে ভাবুন: সামাজিক প্রয়োজনে দাওয়াতগুলোতে যেতেই হয়। আর দাওয়াত মানেই উপহার। খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না, তাই না? সেক্ষেত্রে একটি সৃজনশীল চিন্তা করুন। কেবল দামের কথা না ভেবে ভিন্নপথে হাঁটুন। যেমন, কারো বাড়িতে লাঞ্চ বা ডিনারের দাওয়াত থাকলে নিজের হাতে একটা ডিশ রেঁধে নিয়ে যান। জন্মদিন বা বিয়ের দাওয়াতে হাতে তৈরি উপহার, দেশিয় পণ্য কিংবা ফুলের বুখে উপহার দিন। আপনাকে কেউ কিছু উপহার দিলে, সেই জিনিসটি যদি আপনার প্রয়োজনীয় না হয় তবে যত্ন করে রেখে দিন। এটাও অন্য কাউকে উপহার হিসেবে দিতে পারবেন।

অর্থ সাশ্রয় খুব সহজ একটি ব্যাপার। একটু চেষ্টা থাকলে খুব সহজেই করা যায়।