দেখে নেওয়া যাক আপনার মনের লুকানো ভয়ের কথা!

“ভয়” হলো মানুষের বিবিধ আবেগের মাঝে অন্যতম একটি। ভয় পাওয়ার ফলে একজন মানুষের মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে কাজ করা শুরু করা। একজন মানুষ সাধারণত ভয় পায় কোন ধরণের নেতিবাচক আশঙ্কা ও হুমকির সম্মুখীন হলে। সেটা হতে পারে জীবনের হুমকি, জীবনে শান্তির হুমকি, কাউকে হারানোর আশঙ্কা, নিজের ক্ষমতা-অর্থ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা ইত্যাদি। হুট করে কোন কারণে ভয় পেলে হয়তো কেউ পালিয়ে বেড়ায়, অথবা কেউ হয়ে যায় একেবারেই স্থবির।

তবে আজকে ভূতের সিনেমা দেখে কিংবা ভূতের গল্প শুনে ভয় পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। এখানে বলা হচ্ছে, একজন মানুষের মনের ভেতরে লুকায়িত ও গোপন ভয়ের কথা। ঠিক কোন ব্যাপারে আপনার মধ্যে ভয় কাজ করে? এক একজন মানুষের মনের ভেতরের গোপন ভয়ের কারণটি হয় একেবারেই ভিন্ন। যা তাকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে, ভিন্ন ধারায় ভাবতে সাহায্য করে।

উপরোক্ত ছবিটিকে ‘সাইকোঅ্যানালাইসিস’ এর জন্য একদম পারফেক্ট একটি ছবি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। যা একজন মানুষের মনের গোপন ও লুকায়িত ভয়কে প্রকাশ করতে সাহায্য করে থাকে। কারণ এই ছবিটি দেখার সাথে সাথেই আপনার অবচেতন মনে ভয়ের বার্তা পেয়ে যায়।  ছবিতে লুকিয়ে থাকা মাথার খুলির আকৃতি ‘ভয়’- এর আবেগকে তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে। এই ছবিটি দেখার সময় সর্বপ্রথম যে জিনিসটি আপনার চোখে পড়ে সেটাই আপনার মনের গোপন ও সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ।

এই সাইকোঅ্যানালাইসিস পরীক্ষাটি খুবই সহজ ও ছোট। প্রথম ছবিটি আরেকবার দেখুন। কী আপনার চোখে সর্বপ্রথম ধরা দেয়?

১/ ছোট মেয়ে

ছোট মেয়ে

ছবি দেখার সময় সর্বপ্রথম যদি আপনি ছোট মেয়েটিকে খেয়াল করেন তবে আপনার মাঝে জমানো ও চাপা রয়েছে ছেলেবেলার ভয় ও আবেগ। এমন ধরণের অবদমিত আবেগ খুবই সাধারণ এবং এই সকল আবেগ প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরেও জীবনের উপরে বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দিতে পারে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, এটা আপনার মায়ের সাথে আপনার সম্পর্ক প্রকাশ করে থাকে। ছেলেবেলায় যদি আপনার মা স্নেহপরায়ণ না হয়ে থাকেন, তবে আপনার মাঝে রয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দায়িত্ব গ্রহণের প্রতি ভয়। নিজের এইসকল আগেবকে অবদমিত করে রাখার কোন মানেই নেই। জীবনের যে কোন ক্ষেত্রেই এমন ধরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাই এই সকল ভয় ও আবেগকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা প্রয়োজন।

২/ প্রজাপতি

প্রজাপতি

সাধারণত প্রজাপতিকে আলো, আশা এবং ইতিবাচক অর্থে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রজাপতির মাধ্যমেও একজন মানুষের অবচেতন মনের ভয় প্রতিফলিত হতে পারে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে- কোন কিছু নতুনভাবে শুরু করার ভয় অথবা মৃত্যুভয়।

অথবা, প্রজাপতির মাধ্যমে কোন কিছু হাতছাড়া হয়ে যাবার ভয় এবং কোন সুযোগ গ্রহণ না করার ভয়ও প্রকাশ হয়ে থাকে। এছাড়াও, খুব কাছের কাউকে হারানোর পর মন খারাপ ও কান্নাকাটি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার আবেগকেও প্রকাশ করে অনেক সময়।

৩/ মাথার খুলি

আপনি যদি সর্বপ্রথম মাথার খুলির আদলটি দেখতে পান ছবিতে, তবে আপনি অবচেতন মনেই মৃত্যুকে ভয় পান। তবে সেটা নিজের মৃত্যু নয়। পরিবারের কোন সদস্য অথবা কাছের কারোর মৃত্যু নিয়ে আপনার মাঝে ভয় কাজ করে। এমন ধরণের ট্রমা মনের মধ্যে নিয়ে ঘোরার ফলে সেটা আপনার মাঝে একটি ভীতিকর ছায়া ও প্রভাব ফেলে দেয়। আপনি সবসময় ভাবতে থাকেন, প্রিয় কাউকে জীবন থেকে হারানোর কষ্ট কোনোভাবেই সহ্য করা সম্ভব নয় আপনার পক্ষে।  

৪/ স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরি

এই ছবিতে স্ট্রবেরিকে ছবির হৃদযন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যেহেতু এটি ছবির একেবারে মাঝামাঝি অবস্থিত এবং ছবিতে স্ট্রবেরিকে বেশ বড় করে দেখানো হচ্ছে। যদি সবার প্রথমে আপনার চোখে এটিই ধরা পড়ে তবে আপনার নিজের মনের ভেতরটা নিজেরই ভালোভাবে পরখ করে নেওয়া প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে, আপনার চারপাশের সম্পর্ক ও ভালোবাসা সম্পর্কিত যে নেতিবাচক আবেগ ও ভয় কাজ করে সেটার প্রতি লক্ষ্য করা প্রয়োজন। সেটা হতে পারে আপনার ছেলেবেলা অথবা আপনার বর্তমান সময়ের যেকোন সম্পর্ক। এমনকি ভবিষ্যৎ এর সম্পর্ক নিয়েও আপনার মাঝে ভয় কাজ করতে পারে। এমন ধরণের ভয়ের উৎপত্তি যেখান থেকেই হোক না কেন, তাদেরককে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ না হলে ভবিষ্যৎ জীবনে স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে এমন ধরণের অবদমিত ভয় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৫/ মাকড়শা

মাকড়শা

খুব সাধারনভাবেই মাকড়শা হলো মানুষের অন্যতম বড় ভয়ের কারণ। যদিও এখানে মাকড়শাকে মানুষের মনের লুকায়িত ভয় হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এখানে মাকড়শা একজন মানুষের মনের অবদমিত ভয়কে প্রকাশ করে। এটা প্রকাশ করে- কারোর মনে নিরাপত্তাহীনতা।

এটা আমাদের বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থাও প্রকাশ করে থাকে। অথবা এর দ্বারা মানুষের আবেগ এবং আত্মিক অবস্থাও প্রকাশিত হয়ে থাকে। নির্বিশেষে, মাকড়শা দেখার মাধ্যমে একজন মানুষের মনের যে ভয়টি প্রকাশিত হয় সেটা হলো- বর্তমানে আপনি নিজস্ব অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন এবং আপনি পুরোদমে নিজের জীবনকে উপভোগকে করতে ভয় পাচ্ছেন।

যে কারণে আপনার অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করা প্রয়োজন, বর্তমানে কোন ব্যাপারটি আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলছে। কোন কারণে আপনি মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। সেই ব্যাপারটি নিয়ে আপনার কাজ করা উচিৎ। এছাড়া আপনি কখনোই পরিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন না।

৬/ দুটো গাছ

গাছ

আপনার চোখে যদি সর্বপ্রথম গাছ দুইটি ধরা পড়ে, তবে আপনার মনের ভয়টি অনেক বেশী গভীরে অবস্থিত। যার মূল ছড়িয়ে গেছে অনেক দূর পর্যন্ত। আপনি আপনার আবেগের ভাঙন নিয়ে ভীত। আপনি ভয় পান, যদি কেউ আপনার আবেগকে নষ্ট করে ফেলে, ভেঙে দেয়!

এমন ধরণের ভয় পাওয়ার ব্যাপারটি খুবই স্বাভাবিক। এমন ধরণের ভয় মনের মাঝে কাজ করে অতীতে বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হবার জন্য। এর মাধ্যমে নিজেদের মাঝে থাকা দ্বিধা ও শঙ্কাবোধ খুব প্রবলভাবে কাজ করে থাকে।

এমন ধরণের ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত করার উপায় হলো- নিজের অনুভূতিকে বিশ্বাস করতে শেখা। ভালো কোন কাউন্সিলারের সাহায্য নেওয়া। ইতিবাচক এই সকল অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের মনে গেঁথে থাক গভীর ভয়গুলো সরিয়ে ফেলা সম্ভব পুরোপুরি ভাবে।

৭/ দুটো টেডি বিয়ার    

টেডি বিয়ার

টেডি বিয়ার শিশুদের শান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি সর্বপ্রথম এই টেডি বিয়ার দুইটি খেয়াল করে থাকেন, তবে আপনি ভীত হবার কারণগুলো থেকে মুক্তি চাইছেন মনেপ্রাণে। ছবিতে থাকা টেডি বিয়ার ‘ভয়’কেই ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে। সেটা হতে পারে ছেলেবেলার কোন ট্রমা যেটা নিয়ে কখনোই কথা বলা হয়নি আপনার। অথবা, বর্তমান সময়ের এমন কোন পরিস্থিতি ও ঘটনার সাথে নিজে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন আপনি। যা আপনার জন্য প্রায় অসম্ভব।

এমন ধরণের পরিস্থিতিতে নিজের মাঝেই অজানা ভয় এসে গেঁড়ে বসে। কারণ পূর্বে আপনি এমন ধরণের পরিস্থিতিকে কখনোই সামলানোর চেষ্টা করেননি। একবার যদি এই সকল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন তবে নিজের মাঝেই বিশ্বাস তৈরি করতে পারবেন আপনি। তার চেয়েও বড় কথা, এরপর এমন ধরণের পরিস্থিতি মনের মাঝে ভয় তৈরি করতে পারবে না।

একজন মানুষের মাঝে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরণের ভয় লুকায়িত থাকতে পারে। বেশীরভাগ মানুষ তাদের মনের ভয় ও আশঙ্কাগুলোকে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন না। যে কারণে, এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে তার ব্যক্তিজীবনেও। তাই নিজের মনের অবদমিত ভয় সম্পর্কে সকলের জানা প্রয়োজন।

 

সুত্রঃ প্রিয়.কম